সমুদ্রতলের এক দুঃস্বপ্ন। এটি পৃথিবীর অত্যতম ধূর্ত হিংস্র প্রাণীদের একটি। এদের দেহের সামনের অংশে দুইটি ভয়ংকর রকমের উপাঙ্গ (পা এর মতো) রয়েছে।এই উপাঙ্গগুলো সমবেগে এতটাই দ্রুততার সাথে পরিচালিত করতে সক্ষম যা একটি বাইশ ক্যালিবারের বন্দুক থেকে বের হওয়া গুলির বেগের সমান এবং যা মাত্র এক সেকেন্ডের তিন হাজার ভাগের চেয়েও কম সময়ে শিকারকে ১৫০০ নিউটন বলে আঘাত করতে সক্ষম। মানুষ যদি এই পরিমাণ বেগের দশভাগের একভাগ বেগ সঞ্চার করতে পারতো তবে একটি বাস্কেটবলকে পৃথিবীর বাইরের কক্ষপথে ছুঁড়ে ফেলতে পারতো। এরা এই উপাঙ্গগুলোকে এতটাই দ্রুততার সাথে নাড়ায় যে তাদের চারপাশের পানি সুপারক্যাভিটেশন বুদবুদ সংঘর্ষ নামক একটি পদ্ধতিতে ফুটতে শুরু করে।এই পদ্ধতিটি একধরণের সমুদ্রতলদেশীয় শক-ওয়েভ সৃষ্টি করে।যদি ম্যানটিস চিংড়ি শিকারকে আঘাত করতে লক্ষ্যভ্রষ্টও হয়, তবুও এই শক-ওয়েভ শিকারকে মেরে ফেলতে পারে।এই বুদবুদের সংঘর্ষ গুলো এতটাই শক্তিশালী যে এগুলো প্রায় কয়েক হাজার কেলভিন তাপ উৎপাদন করে এবং ছোটখাটো আলোক বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম,এই বিস্ফোরণকে সনোলুমিনিসেন্স বলা হয়। যা অন্যান্য প্রাণীদের টুকরোটুকরো করে ফেলতে পারে।এই শক-ওয়েভ এতই মারাত্মক যে শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, অক্টোপাস এসব প্রাণীকে থেঁতলে দিতেই থাকে যতক্ষণ না মুখরোচক কিছু বেড়িয়ে আসে। এই চিংড়ির উপাঙ্গগুলো এতটাই স্থিতিস্থাপক আর শক্ত যে, বিজ্ঞানিরা ম্যানটিস চিংড়ির কোষের গঠন নিয়ে গবেষণা করছেন যাতে যোদ্ধাদের জন্য উন্নত মানের বর্ম তৈরী করা যায় ।